ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ব্যবসায়ীর বহরে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ ঘন্টা আগে
সাভারে ব্যবসায়ীর বহরে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৪
সাভারে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেন নামে একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পথে বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বহরের গতিরোধ করে হামলা চালায় ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারী সন্ত্রাসীরা প্রথমে আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন বাধা দিলে তাঁর ওপর লোহার রড, হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা এবং তাঁর কাছে থাকা ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করতে গেলে রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে রিফাতের হাতে, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্বজনদের দাবি, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁদের কয়েকজনকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে মামলা বা আইনের আশ্রয় নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং লাশ গুমের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম গগনের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ তথ্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মারামারির বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের হামলার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এটি একটি পত্রিকার হার্ড নিউজ-এর কাঠামো অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে এবং যাচাই না হওয়া তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে লেখা হয়নি।


কমেন্ট বক্স